Showing posts with label West Bengal.. Show all posts
Showing posts with label West Bengal.. Show all posts

Tuesday, September 22, 2020

পুরোহিত ভাতা Vs ইমাম ভাতা: কিছু বিশ্লেষণ ও তৃণমূলের মেকি হিন্দুপ্রেমের মুখোশ উন্মোচন।

প্রথমেই বলি একটা কথা কিছুদিন উঠেই চাপা পড়ে গেলো কেন অনেকেই বুঝলেন না!! কথাটা হল পুরোহিতদের ভাতা, এটা নিয়ে সেভাবে কথা বলতে কাউকেই দেখিনি। হ্যা মনে যারা বলেছে তারা বলেছে কিন্তু এখানে ইমাম ভাতা নিয়ে অনেক কিছু লেখা হচ্ছে। তার পেছনে নিশ্চই কারণ আছে।

কারণটা হলো তৃণমোল্লার sorry তৃণমূলের হিন্দুপ্রেম লোক দেখানো আর এটা মুসলিম তোষণকে আড়াল করার জন্য "শাক দিয়ে মাছ ঢাকা" এর মত একটা প্রচেষ্টা।

যাই হোক "ক্ষমতা চেঁচাচ্ছি" 2013 থেকে সম্ভবত এই স্কিম চালু করেন
যদিও প্রথমে 10000 করে টাকা দেওয়ার কথা ওঠে, তবে 2500 এই শেষে রফা দফা হয়, সেই সময় প্রায় 70000 ইমাম বাংলায় পড়াতেন।
যদিও সবাই এর জন্য apply করেননি, একটা এস্টিমেট করলে বোঝা যাবে যে প্রায় 30000 ইমাম এই স্কিম থেকে সুবিধে পাচ্ছে।
আর হ্যা এটা প্রায় 6 বছর পরিয়ে গেছে।
নিজেই যোগ গুন করে কত টাকা হচ্ছে বের করুন।

সেই সময় প্রায় 22 কোটি টাকা কোষাগার থেকে বের করা হয় এই কাজের জন্য। পরে আরও অনেক।
আর সব থেকে অবাক করার কথা হলো এই স্কিমকে সেই সময় মহামান্য কলকাতা হাইকোর্ট অসংবিধানিক বলে ঘোষনা করে।
তবু আটকানো যায়নি।।

আচ্ছা এছাড়া 16000 মাদ্রাসাকে চিহ্নিত করা হবে ইসলাম ধর্ম পড়ানোর জন্য।
যদিও মাদ্রাসায় মূলত ইসলাম পোড়ানো হয় বলেই জানি, তবু সরকার যে এক্সট্রা জোর দিতে চায় এটার পেছনে সেটাই বলার।
যাই হোক ওই 30000 ইমাম ছাড়াও যারা নরমাল মসজিদ এ নামাজ পড়ান তারাও এই স্কিম এ apply করতে পেরেছিলেন।

আচ্ছা হ্যাঁ, এটাও বলে রাখি পুরোহিত স্কিম এ এটা বলা হয়েছে "POOR SANATANI PRIEST" মনে গরিব হতে হবে, যেখানে ইমাম ভাতায় শুধু ইমাম হলেই চলবে।
তাহলে এই ভেদাভেদ কেন?
ইমাম ভাতা মাসিক ২৫০০ টাকা করে সব ইমামদের জন্য (৩০০০০) হলে পুরোহিত ভাতা ১০০০ টাকা করে শুধুমাত্র গরীব সনাতনী ৮০০০ পুরোহিতের জন্য কেন?
এ ছাড়া হজ হাউস বানানো তো হয়েছে যার মূল্য শোনা কোথায় প্রায় 100 কোটি টাকা।
শুধু ইফতার পার্টিতে দিদি ৬৬ কোটি খরচ করেন কিন্তু দুর্গা পূজার অনুদান মাত্র ২৮ কোটি টাকা।

১)ইমাম-মোয়াজ্জেম ভাতা ২০১২ সালের এপ্রিল মাস থেকে চলছে অর্থাৎ ৮ বছরের ওপর।

২)প্রায় ৩০,০০০ ইমাম ২৫০০/- করে আর প্রায় ২০,০০০ মোয়াজ্জেম ১৫০০/- করে পাচ্ছে।

৩)তৃণমূল সরকার সরাসরি DM/BDO -র মাধ্যমে এই ভাতা দিচ্ছিল।বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যের করা PIL এ সরকার হাইকোর্টে হেরে যায়।

তখন সরকার ঘুরপথে সংখ্যালঘু উন্নয়ন বাজেটে এই টাকাটা যোগ করে ওয়াকফ বোর্ডকে দিতে শুরু করে এবং ওয়াকফ বোর্ড এই টাকা ইমাম-মোয়াজ্জেমদের মধ্যে বিতরণ করতে থাকে। 

৪)এই খাতে সরকারের বাৎসরিক খরচ ১২৬ কোটি টাকা। 

৫)৮ বছরে এই খাতে এখন অবধি মোট ১০০৮ কোটি জনগনের করের টাকা খরচ হয়ে গেছে।

৬)৮০০০ জন হিন্দু ব্রাহ্মণ পুরোহিতের মাসিক ১০০০ টাকা হিসেবে সরকারের মোট খরচ হতে পারে ৬ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। হিসেবটা অক্টোবর থেকে মে অবধি কারণ ঘোষণাটা সেপ্টেম্বরে হয়েছে আর বর্তমান সরকারের মেয়াদ মে মাস পর্যন্ত। 

৭)কাজেই ১০০৮ কোটি বনাম ৬.৪০ কোটির মধ্যে যতটা তফাত, ততটাই তফাত মুসলিম তোষণ আর ভোটের মুখে হিন্দু তাস খেলার প্রচেষ্টার মধ্যে।পুরোটাই ছলনাময়ীর বাগাড়ম্বর। 

৮)অতীত অভিজ্ঞতা থেকে ছলনাময়ী খুব ভাল করেই জানে এই পুরোহিত ভাতা ঘোষণার বিরুদ্ধেও কোনো PIL হবে এবং ভাতাপ্রদানের প্রক্রিয়া আটকে যাবে।

৯)আসল ট্যুইস্ট এখানেই।মুসলিমদের যেমন একত্রীভূত অভিভাবক ওয়াকফ বোর্ড, হিন্দুদের তেমন কোনো একত্রীভূত সংস্থা-সংগঠন নেই।দেবোত্তর ট্রাস্ট আছে কিন্তু সেগুলোও Unified under 1 umbrella নয়।তখন ছলনাময়ী আবার কাঁদুনি গাইবেন “আমি তো দিতেই চাই।আইনে আটকে গেলেও আমার দোষ?”

১০)অতএব, গত ৮ বছর ধরে এই ভাতাপ্রদানের নামে যে নির্লজ্জ তোষণ ও জনগনের করের টাকার নয়ছয় চলছে যেভাবে, নির্বাচনের প্রাক্কালে পুরোহিত ভাতার ঘোষণা নিতান্তই হিন্দুদের জন্য কুম্ভীরাশ্রুমোচন এবং হিন্দুদরদী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার মরীয়া ও হাস্যকর প্রচেষ্টা।


কিছুদিন আগে পুরোহিত ভাতার RSS এর তরফ থেকে বিরোধিতা করায় RSS তথা বিজেপি কে মুলি + মোল্লারা হিন্দুবিরোধী বলছে দেখলাম। দেখেও হাসি পাচ্ছে, যে এখন মোল্লাদের কাছ থেকে সার্টিফিকেট নিতে হবে কে হিন্দু প্রেমী কে হিন্দু বিরোধী
যেমন বছর খানেক আগে ফুরফুরা শরীফ থেকে এটা ঠিক করা হচ্ছিল রাম আমাদের ভগবান না, এটা মা কালির ভূমি আরো এরম কত নাটক দেখতে হবে কে জানে।।

আর 100 কোটির হজ হাউস তো সরকারেরই বানানো তাও আবার HIDCO এর জমির ওপর, HIDCO হলো বাংলার সরকারি কোম্পানি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট এর জন্য।

তার মনে এই যে যেই টাকায় ইমামদের ভাতা, মসজিদ নির্মাণে সহায়তা, তথা হজ হাউস (মেদিনাতুল হাজ্জাজ) ইত্যাদি কাজে ব্যয় করা হয় সেটি সরকারি ট্যাক্স এর টাকা এবং এর মধ্যে হিন্দু মন্দির এর টাকাও উপস্থিত আছে।

কিন্তু যেহুতু ওয়াকফ বোর্ড এর নিচেই সব মসজিদ পড়ে তাই মসজিদ এর সব টাকা যায় এভাবেই বার বার হিন্দুদের বোকা বানানো হয়।
আচ্ছা দেখা যাক এখন পুরোহিত এর দিকটা:
1000 করে 8000 জন, যেটা টাকার দিক থেকেও এবং জনসংখ্যার দিক থেকেও কম (2500 আর 30000 এর তুলনায় + 16000 মাদ্রাসা তে ইসলাম পড়ানোর এর ব্যাপার টা)
আর তার চেয়েও বড় কথা এটা শুরু হচ্ছে 2020 থেকে যেখানে ইমাম পাচ্ছে 2013 থেকে প্রায় 6 বছরে অঢেল টাকা ঢালা হয়েছে ইমাম মোয়াজ্জেম দের পেছনে, আজ যদি 6 বছর পর পুরোহিত কে টাকা দেওয়ার বাই উঠলো তাহলে এই 2500×12×7=210000 এর হিসেব কিভাবে এক করা হবে
কারণ এমনিতেই 2500 এর থেকে 1000 কম তার ওপর ওই 2500 প্রায় 7 বছর ধরে দেওয়া হয়েছে তাই কিভাবে মূর্খমন্ত্রী কিভাবে মিলাবেন অঙ্ক টা সেটাই দেখার, যদি না মেলাতে পারেন ওই 1000 এর ভিক্ষার দরকার নেই কারো।

আচ্ছা এছাড়া বাংলা আবাস যোজনা এর অন্তর্গত সব গরিব পুরোহিত কে ঘর দেওয়া হবে,
প্রথমত বাংলা আবাস যোজনা তো ইন্দিরা আবাস যোজনার rebranded version তাহলে এতে মূর্খমন্ত্রী কি সাহায্য করছে বুঝলাম না!!
মনে কোনো পুরোহিত যদি ঘর পায় IAY তে তাহলে তো তার জন্য প্রধানমন্ত্রী কে ধন্যবাদ দেওয়ার কথা মূর্খমন্ত্রী কে তো নয় নিশ্চই।।

আচ্ছা এটাও বলে রাখি এই lockdown এ প্রায় 200000 পুরোহিত কাজ হারিয়েছে, যেখানে ইমাম কিন্তু মাসে মাসে ভাতা ঠিক পাচ্ছে।
তাহলে 200000 এর জায়গায় 8000 কেন?
ক্ষমা করবেন মূর্খমন্ত্রী আপনার স্কিম মাথায় ঢুকছেনা।

সত্যি বলতে কি আমি চাইনা কেউই টাকা পাক  না ইমাম না পুরোহিত
আমি এটাও চাই যে মন্দির কে সরকারের হাত থেকে বের করা হোক তথা একটি বাংলা কেন্দ্রীয় স্বাধীন সংস্থা "Bengal Mandir Committee" 

Type এর কিছু গঠন করে বাংলার প্রতিটি মন্দির দেখাশোনা করা হোক।

তথা মন্দির এর প্রনামির টাকা গরিব হিন্দুর স্বার্থে লাগানো হোক, ও মন্দির নির্মাণ, ভগবৎ পাঠ, তথা আরো ধর্মীয় শিক্ষার পেছনে লাগানো হোক।
আর এই মন্দির কমিটিই হবে বাংলার হিন্দু জাগরণ এর কেন্দ্র।
আমি চাইনা আমার মন্দির এ দেওয়া একটা টাকাও যেন কোনো মোল্লা/ইমাম পাক।
আমার প্রনামির টাকা মন্দির তথা হিন্দুর স্বার্থে, এখানে মুসলিম এর প্রতি ঘৃণা নেই শুধু হিন্দু একতার ভালোবাসা আছে।

Note:
নিউজ সোর্স : livemint, TOI, ইত্যাদি।
লেখা টুইটার থেকে by "Big Smoke" @AdvocadoJi & "Joyride" @AMLAN_KOLKATA 
Edited and some points added by me.

ভালো লাগলে শেয়ার করুন, ভালো থাকবেন সবাই।

Please see other posts in this blog page by clicking "Home" or from "My Favorite Posts" / "Popular Posts" / "Archives" sections, and if any remarks please feel free to post.
 Thanks & Jai Hind 🇮🇳!! Saroop Chattopadhyay.

Sunday, July 19, 2020

সুহৃদ দত্ত- বেনিফিট অফ ডাউট। লেখক~ তাপস পরমানিক।।

আপনি কি সত্যিই তাপসী মালিককে ধর্ষণ করেছিলেন? সিপিএমের এত নেতা থাকতে কেন আপনার বিরুদ্ধেই এই অভিযোগ উঠল? 

কারও বাড়িতে বসে এরকম প্রশ্ন করলে তিনি হয় লাঠিপেটা করবেন। নয় তো মা-মাসি উদ্ধার করে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেবেন। কিন্তু তিনি আমার কথা শুনে শুধুই মুচকি হাসলেন। কোনও তাপ উত্তাপ নেই। রাগ অভিমান নেই।

শান্ত ভাবে বললেন, ‘তাপসী মালিকের খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর এ রকম অনেক অপমান সহ্য করতে হয়েছে। জেলে ঢোকার পর প্রথম দিকে কয়েদিরাও আমাকে অনেক কটু কথা বলত। এখন আর গায়ে মাখি না।' 

অভিমানের সুর সুহৃদের গলায়।

কিছুক্ষণ চুপ। আবার বলা শুরু করলেন।

'আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছিল আদালতে তার কোনও প্রমাণ দিতে পারেনি সিবিআই। নিম্ন আদালত দোষী সাব্যস্ত করলেও হাইকোর্ট আমাকে জামিন দিয়েছে। আমার জামিন খারিজ করার জন্য সিবিআই সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল। দেশের সর্বোচ্চ আদালত সেটা খারিজ করে দিয়েছে। আপিল মামলায় হাইকোর্টের শুনানিতে সিবিআইয়ের আইনজীবী দিনের পর দিন গরহাজির থাকছেন। জানি না এই মামলা কবে শেষ হবে।’ 

তাহলে বলছেন আপনার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মিথ্যা?

উল্টো দিক থেকে জবাব এল, ‘আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। টাটাদের প্রতিযোগীরা যে ন্যানো গাড়ির উৎপাদন ঠেকাতে চেয়েছিল। আমার কথায় বেশির ভাগ মানুষ কারখানার জন্য জমি দিতে এগিয়ে এসেছিলেন। সে জন্যই আমাকে বলির পাঁঠা করা হয়েছে।’
এক নিশ্বাসে বলে গেলেন কমরেড সুহৃদ দত্ত। 

তাপসী মালিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে এক সময় তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য-রাজনীতি। তাতে নাম জড়িয়ে যায় সুহৃদ দত্তের। তখন তিনি ছিলেন সিপিএমের সিঙ্গুর জোনাল সম্পাদক। ২০০৭ সালের জুন মাসে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার হন সুহৃদ দত্ত এবং দেবু মালিক। প্রায় দু’বছর জেলে ছিলেন। তারপর ২০০৯-এর ফেব্রুয়ারিতে জামিনে ছাড়া পান।

জেল থেকে ছাড়া পেলেও আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। অসুস্থতা তাঁকে গ্রাস করেছে। গোটা শরীরে বিষাক্ত ঘা। অনেক ডাক্তার দেখিয়েও রোগ ভালো করা যাচ্ছে না। লুঙ্গিটা খানিক উঠিয়ে পায়ের ঘা দেখিয়ে বললেন, ‘সিবিআই যখন আমার নারকো টেস্ট করায় তখন একটা ইনজেকশন দিয়েছিল। তার ঠিক পরের দিনই পায়ে র‍্যাশ বেরোয়। সেটা দেখতে অনেকটা ফোস্কার মতো। তা থেকেই সারা শরীরে ঘা ছড়িয়ে পড়ে। স্মৃতিশক্তিও অনেকটা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এখন অনেক কিছুই মনে রাখতে পারি না।’

সিঙ্গুরে টাটাদের ন্যানো কারখানা যেখানে তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে জলাপাড়া এলাকা। দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নেমে পিচের রাস্তা ধরে যাওয়ার পর সরু গলির মধ্যে সুহৃদ দত্তদের পৈতৃক বাড়ি। সুহৃদ দত্তের বাড়ি যাব বলতেই এক সহৃদয় ব্যক্তি দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিলেন। 

পাঁচিল ঘেরা সুন্দর ছিমছাম দোতলা বাড়ি। গেরুয়া রং। পাঁচিল দিয়ে ঢুকেই চোখে পড়ল গেটের সামনে ঝুলছে ফ্রেমে বাঁধানো শ্রীকৃষ্ণের ছবি। বাড়ির গেরুয়া রং আর শ্রীকৃষ্ণের ছবি দেখে ঝটকা লাগলো।

কলকাতা থেকে সাংবাদিক দেখা করতে এসেছে শুনে গুটি-গুটি দোতলা থেকে নীচে নামলেন সত্তরোর্ধ্ব মানুষটি। তার পর নিয়ে গেলেন পাশের ঘরে। ঘরের দেওয়ালে ঝুলছে মার্কস, এঙ্গেলস, রবীন্দ্রনাথ, লেনিন ও স্ট্যালিনের বাঁধানো ছবি। ঘরে ছোট্ট তক্তপোশ। কয়েকটা কাঠের চেয়ার আর একটা টেবিল। 

কথা বলার ফাঁকে তাঁর কাছ থেকেই জানতে পারলাম, বাড়িতে আপনজন বলতে কেউ নেই। এক সময় চাকরি করতেন। পরে চাকরি ছেড়ে হয়ে যান সিপিএমের সর্বক্ষণের পার্টি কর্মী। বললেন, 'দল করতে গিয়ে বিয়ে করার কথা মাথায় আসেনি। বলতে পারেন, আমি ঝাড়া হাত পা। ভাই বোনেদের সংসারে থাকি।'   

তাপসী মালিকের নাম উচ্চারণ করতেই সবিনয়ে বললেন, ‘আমাকে একটু সময় দিতে পারবেন? তা হলে আপনাকে কিছু জিনিস দেখাতে পারি।’ বলেই উঠে গেলেন দোতলায়। 

কিছুক্ষণ পর একটা মোটা কাগজের বান্ডিল নিয়ে হাজির হলেন। তার মধ্যে কোনওটা চার্জশিটের কপি। কোনওটা আবার পোস্টমর্টেম রিপোর্ট। কয়েকটা জেরক্স কপি হাতে ধরিয়ে বললেন, আগে এটা ভাল করে পড়ে দেখুন।

সেই  কাগজে চোখ বোলাতে গিয়ে এক জায়গায় দৃষ্টি আটকে গেল। তাপসীর মৃত্যুরহস্য নিয়ে সিবিআই ক্রাইম ব্রাঞ্চের সুপারিন্টেডেন্টকে একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছিলেন এসএসকেএম হাসপাতালের ফরেনসিক এবং স্টেট মেডিসিনের তৎকালীন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক এ কে গুপ্তা। সেই রিপোর্টের এক জায়গায় তিনি বলছেন: The appearance of the external os and the cavity of the uterus as seen by me on reviewing the video cassette appears to be in conformity with a case of abortion in recent past. 
In absence of the report of verginal swab and smear i.e whether spermatozoa or seminal fluid or DNA of a male sbject are detected in them, it is not possible to opine definitely whether she was sexually violated in recent past i.e prior to death. However further report may be submitted after receiving the above mentioned report. 

Considering the findings in the post-mortem report, the findings observed by me on reviewing of video cassette on post-mortem examination of Tapasi Malik and visit to the place of detection of dead body of Tapasi Malik. I am finally opine that death of Tapas Malik was due to the effects of ante-mortem burn injuries which were in probability homicidal in nature as she was put to flame after incapacitating her by causing ante-mortem injuries especially heamatoma (extravasation) over her head. 

তার বাংলা তর্জমা করলে এটাই মানে দাঁড়ায় যে, মৃত্যুর কয়েক দিন আগেই তার অ্যাবরশন করানো হয়েছিল। তার যৌনাঙ্গে শুক্রাণু বা সেমিনাল তরল বা পুরুষের ডিএনএ পাওয়া যায়নি।
কাগজের পাতা ওল্টাতে গিয়ে দেখতে পেলাম, বেশ কয়েকটি লাইনের উপর সবুজ মার্কার দিয়ে দাগ করা রয়েছে। সেটা দেখিয়ে সুহৃদ দত্ত বললেন, 'কি কিছু বুঝলেন? আপনারা তো এসব লিখবেন না।'
কিছুটা অনুযোগের সুরেই বললেন, 'তখন তো লোকে কত কথাই বলেছিল। আমার দলের লোকেরাও অনেকে সন্দেহ করেছিল। একটা মিথ্যা অভিযোগে আমাকে জেল খাটতে হয়েছে। তাতে আমার কোনও দুঃখ নেই। তাতেও যদি ওরা কারখানাটা করতে দিত, আমি সব থেকে খুশি হতাম। সেটাই তো করা গেল না।'

'বিনা দোষে' জেল খাটার জন্য বিরোধীদের ষড়যন্ত্রকে দায়ী করলেও সিঙ্গুর থেকে ন্যানো বিদায়ের জন্য নিজের দলকেই কাঠগড়ায় তুললেন। বললেন, ‘আমরা মানুষকে বোঝাতে পারিনি, এটা আমাদের দলের ব্যর্থতা। আমি নিজেও টাটার কর্তাদের সঙ্গে দেখা করে বলেছিলাম, সিঙ্গুরে যখন আপত্তি উঠছে আপনারা অন্য জায়গায় কারখানাটা করছেন না কেন? কিন্তু তাঁরা এত সুন্দর জায়গা হাতছাড়া করতে চাননি। বিরোধীদের চক্রান্তের মোকাবিলা করতেও আমাদের সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তার ফল ভুগতে হচ্ছে সিঙ্গুরের মানুষকে। কারখানাও হল না। চাষিরা জমি ফেরত পেলেও তাতে চাষ করাও যাচ্ছে না! যারা একসময় টাটাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল তারাই এখন আপশোস করছে।’

Please see other posts in this blog page by clicking "Home" or from "My Favorite Posts" / "Popular Posts" / "Archives" sections, and if any remarks please feel free to post. 
Thanks & Jai Hind!! Saroop Chattopadhyay.

Some recent posts

ভগবান রামচন্দ্র (রঘুবীর) ও ঠাকুর শ্রী রামকষ্ণ পরমহংস দেব, আর বর্তমানের সেক্যুলার (আসলে সিক কুলার) গণ।

শ্রীরামকৃষ্ণের কুলদেবতা ছিলেন ৺রঘুবীর। তিনি নিজে  দেবতার কবচ পরতেন, তাঁর পার্থিব শরীর পঞ্চভূতে লয় হওয়ার পরবর্তী সময়ে শ্রীমা সেই পবিত্র কব...