Showing posts with label TMC. Show all posts
Showing posts with label TMC. Show all posts

Tuesday, September 22, 2020

পুরোহিত ভাতা Vs ইমাম ভাতা: কিছু বিশ্লেষণ ও তৃণমূলের মেকি হিন্দুপ্রেমের মুখোশ উন্মোচন।

প্রথমেই বলি একটা কথা কিছুদিন উঠেই চাপা পড়ে গেলো কেন অনেকেই বুঝলেন না!! কথাটা হল পুরোহিতদের ভাতা, এটা নিয়ে সেভাবে কথা বলতে কাউকেই দেখিনি। হ্যা মনে যারা বলেছে তারা বলেছে কিন্তু এখানে ইমাম ভাতা নিয়ে অনেক কিছু লেখা হচ্ছে। তার পেছনে নিশ্চই কারণ আছে।

কারণটা হলো তৃণমোল্লার sorry তৃণমূলের হিন্দুপ্রেম লোক দেখানো আর এটা মুসলিম তোষণকে আড়াল করার জন্য "শাক দিয়ে মাছ ঢাকা" এর মত একটা প্রচেষ্টা।

যাই হোক "ক্ষমতা চেঁচাচ্ছি" 2013 থেকে সম্ভবত এই স্কিম চালু করেন
যদিও প্রথমে 10000 করে টাকা দেওয়ার কথা ওঠে, তবে 2500 এই শেষে রফা দফা হয়, সেই সময় প্রায় 70000 ইমাম বাংলায় পড়াতেন।
যদিও সবাই এর জন্য apply করেননি, একটা এস্টিমেট করলে বোঝা যাবে যে প্রায় 30000 ইমাম এই স্কিম থেকে সুবিধে পাচ্ছে।
আর হ্যা এটা প্রায় 6 বছর পরিয়ে গেছে।
নিজেই যোগ গুন করে কত টাকা হচ্ছে বের করুন।

সেই সময় প্রায় 22 কোটি টাকা কোষাগার থেকে বের করা হয় এই কাজের জন্য। পরে আরও অনেক।
আর সব থেকে অবাক করার কথা হলো এই স্কিমকে সেই সময় মহামান্য কলকাতা হাইকোর্ট অসংবিধানিক বলে ঘোষনা করে।
তবু আটকানো যায়নি।।

আচ্ছা এছাড়া 16000 মাদ্রাসাকে চিহ্নিত করা হবে ইসলাম ধর্ম পড়ানোর জন্য।
যদিও মাদ্রাসায় মূলত ইসলাম পোড়ানো হয় বলেই জানি, তবু সরকার যে এক্সট্রা জোর দিতে চায় এটার পেছনে সেটাই বলার।
যাই হোক ওই 30000 ইমাম ছাড়াও যারা নরমাল মসজিদ এ নামাজ পড়ান তারাও এই স্কিম এ apply করতে পেরেছিলেন।

আচ্ছা হ্যাঁ, এটাও বলে রাখি পুরোহিত স্কিম এ এটা বলা হয়েছে "POOR SANATANI PRIEST" মনে গরিব হতে হবে, যেখানে ইমাম ভাতায় শুধু ইমাম হলেই চলবে।
তাহলে এই ভেদাভেদ কেন?
ইমাম ভাতা মাসিক ২৫০০ টাকা করে সব ইমামদের জন্য (৩০০০০) হলে পুরোহিত ভাতা ১০০০ টাকা করে শুধুমাত্র গরীব সনাতনী ৮০০০ পুরোহিতের জন্য কেন?
এ ছাড়া হজ হাউস বানানো তো হয়েছে যার মূল্য শোনা কোথায় প্রায় 100 কোটি টাকা।
শুধু ইফতার পার্টিতে দিদি ৬৬ কোটি খরচ করেন কিন্তু দুর্গা পূজার অনুদান মাত্র ২৮ কোটি টাকা।

১)ইমাম-মোয়াজ্জেম ভাতা ২০১২ সালের এপ্রিল মাস থেকে চলছে অর্থাৎ ৮ বছরের ওপর।

২)প্রায় ৩০,০০০ ইমাম ২৫০০/- করে আর প্রায় ২০,০০০ মোয়াজ্জেম ১৫০০/- করে পাচ্ছে।

৩)তৃণমূল সরকার সরাসরি DM/BDO -র মাধ্যমে এই ভাতা দিচ্ছিল।বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যের করা PIL এ সরকার হাইকোর্টে হেরে যায়।

তখন সরকার ঘুরপথে সংখ্যালঘু উন্নয়ন বাজেটে এই টাকাটা যোগ করে ওয়াকফ বোর্ডকে দিতে শুরু করে এবং ওয়াকফ বোর্ড এই টাকা ইমাম-মোয়াজ্জেমদের মধ্যে বিতরণ করতে থাকে। 

৪)এই খাতে সরকারের বাৎসরিক খরচ ১২৬ কোটি টাকা। 

৫)৮ বছরে এই খাতে এখন অবধি মোট ১০০৮ কোটি জনগনের করের টাকা খরচ হয়ে গেছে।

৬)৮০০০ জন হিন্দু ব্রাহ্মণ পুরোহিতের মাসিক ১০০০ টাকা হিসেবে সরকারের মোট খরচ হতে পারে ৬ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। হিসেবটা অক্টোবর থেকে মে অবধি কারণ ঘোষণাটা সেপ্টেম্বরে হয়েছে আর বর্তমান সরকারের মেয়াদ মে মাস পর্যন্ত। 

৭)কাজেই ১০০৮ কোটি বনাম ৬.৪০ কোটির মধ্যে যতটা তফাত, ততটাই তফাত মুসলিম তোষণ আর ভোটের মুখে হিন্দু তাস খেলার প্রচেষ্টার মধ্যে।পুরোটাই ছলনাময়ীর বাগাড়ম্বর। 

৮)অতীত অভিজ্ঞতা থেকে ছলনাময়ী খুব ভাল করেই জানে এই পুরোহিত ভাতা ঘোষণার বিরুদ্ধেও কোনো PIL হবে এবং ভাতাপ্রদানের প্রক্রিয়া আটকে যাবে।

৯)আসল ট্যুইস্ট এখানেই।মুসলিমদের যেমন একত্রীভূত অভিভাবক ওয়াকফ বোর্ড, হিন্দুদের তেমন কোনো একত্রীভূত সংস্থা-সংগঠন নেই।দেবোত্তর ট্রাস্ট আছে কিন্তু সেগুলোও Unified under 1 umbrella নয়।তখন ছলনাময়ী আবার কাঁদুনি গাইবেন “আমি তো দিতেই চাই।আইনে আটকে গেলেও আমার দোষ?”

১০)অতএব, গত ৮ বছর ধরে এই ভাতাপ্রদানের নামে যে নির্লজ্জ তোষণ ও জনগনের করের টাকার নয়ছয় চলছে যেভাবে, নির্বাচনের প্রাক্কালে পুরোহিত ভাতার ঘোষণা নিতান্তই হিন্দুদের জন্য কুম্ভীরাশ্রুমোচন এবং হিন্দুদরদী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার মরীয়া ও হাস্যকর প্রচেষ্টা।


কিছুদিন আগে পুরোহিত ভাতার RSS এর তরফ থেকে বিরোধিতা করায় RSS তথা বিজেপি কে মুলি + মোল্লারা হিন্দুবিরোধী বলছে দেখলাম। দেখেও হাসি পাচ্ছে, যে এখন মোল্লাদের কাছ থেকে সার্টিফিকেট নিতে হবে কে হিন্দু প্রেমী কে হিন্দু বিরোধী
যেমন বছর খানেক আগে ফুরফুরা শরীফ থেকে এটা ঠিক করা হচ্ছিল রাম আমাদের ভগবান না, এটা মা কালির ভূমি আরো এরম কত নাটক দেখতে হবে কে জানে।।

আর 100 কোটির হজ হাউস তো সরকারেরই বানানো তাও আবার HIDCO এর জমির ওপর, HIDCO হলো বাংলার সরকারি কোম্পানি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট এর জন্য।

তার মনে এই যে যেই টাকায় ইমামদের ভাতা, মসজিদ নির্মাণে সহায়তা, তথা হজ হাউস (মেদিনাতুল হাজ্জাজ) ইত্যাদি কাজে ব্যয় করা হয় সেটি সরকারি ট্যাক্স এর টাকা এবং এর মধ্যে হিন্দু মন্দির এর টাকাও উপস্থিত আছে।

কিন্তু যেহুতু ওয়াকফ বোর্ড এর নিচেই সব মসজিদ পড়ে তাই মসজিদ এর সব টাকা যায় এভাবেই বার বার হিন্দুদের বোকা বানানো হয়।
আচ্ছা দেখা যাক এখন পুরোহিত এর দিকটা:
1000 করে 8000 জন, যেটা টাকার দিক থেকেও এবং জনসংখ্যার দিক থেকেও কম (2500 আর 30000 এর তুলনায় + 16000 মাদ্রাসা তে ইসলাম পড়ানোর এর ব্যাপার টা)
আর তার চেয়েও বড় কথা এটা শুরু হচ্ছে 2020 থেকে যেখানে ইমাম পাচ্ছে 2013 থেকে প্রায় 6 বছরে অঢেল টাকা ঢালা হয়েছে ইমাম মোয়াজ্জেম দের পেছনে, আজ যদি 6 বছর পর পুরোহিত কে টাকা দেওয়ার বাই উঠলো তাহলে এই 2500×12×7=210000 এর হিসেব কিভাবে এক করা হবে
কারণ এমনিতেই 2500 এর থেকে 1000 কম তার ওপর ওই 2500 প্রায় 7 বছর ধরে দেওয়া হয়েছে তাই কিভাবে মূর্খমন্ত্রী কিভাবে মিলাবেন অঙ্ক টা সেটাই দেখার, যদি না মেলাতে পারেন ওই 1000 এর ভিক্ষার দরকার নেই কারো।

আচ্ছা এছাড়া বাংলা আবাস যোজনা এর অন্তর্গত সব গরিব পুরোহিত কে ঘর দেওয়া হবে,
প্রথমত বাংলা আবাস যোজনা তো ইন্দিরা আবাস যোজনার rebranded version তাহলে এতে মূর্খমন্ত্রী কি সাহায্য করছে বুঝলাম না!!
মনে কোনো পুরোহিত যদি ঘর পায় IAY তে তাহলে তো তার জন্য প্রধানমন্ত্রী কে ধন্যবাদ দেওয়ার কথা মূর্খমন্ত্রী কে তো নয় নিশ্চই।।

আচ্ছা এটাও বলে রাখি এই lockdown এ প্রায় 200000 পুরোহিত কাজ হারিয়েছে, যেখানে ইমাম কিন্তু মাসে মাসে ভাতা ঠিক পাচ্ছে।
তাহলে 200000 এর জায়গায় 8000 কেন?
ক্ষমা করবেন মূর্খমন্ত্রী আপনার স্কিম মাথায় ঢুকছেনা।

সত্যি বলতে কি আমি চাইনা কেউই টাকা পাক  না ইমাম না পুরোহিত
আমি এটাও চাই যে মন্দির কে সরকারের হাত থেকে বের করা হোক তথা একটি বাংলা কেন্দ্রীয় স্বাধীন সংস্থা "Bengal Mandir Committee" 

Type এর কিছু গঠন করে বাংলার প্রতিটি মন্দির দেখাশোনা করা হোক।

তথা মন্দির এর প্রনামির টাকা গরিব হিন্দুর স্বার্থে লাগানো হোক, ও মন্দির নির্মাণ, ভগবৎ পাঠ, তথা আরো ধর্মীয় শিক্ষার পেছনে লাগানো হোক।
আর এই মন্দির কমিটিই হবে বাংলার হিন্দু জাগরণ এর কেন্দ্র।
আমি চাইনা আমার মন্দির এ দেওয়া একটা টাকাও যেন কোনো মোল্লা/ইমাম পাক।
আমার প্রনামির টাকা মন্দির তথা হিন্দুর স্বার্থে, এখানে মুসলিম এর প্রতি ঘৃণা নেই শুধু হিন্দু একতার ভালোবাসা আছে।

Note:
নিউজ সোর্স : livemint, TOI, ইত্যাদি।
লেখা টুইটার থেকে by "Big Smoke" @AdvocadoJi & "Joyride" @AMLAN_KOLKATA 
Edited and some points added by me.

ভালো লাগলে শেয়ার করুন, ভালো থাকবেন সবাই।

Please see other posts in this blog page by clicking "Home" or from "My Favorite Posts" / "Popular Posts" / "Archives" sections, and if any remarks please feel free to post.
 Thanks & Jai Hind 🇮🇳!! Saroop Chattopadhyay.

Wednesday, February 19, 2020

তাপস পাল ~ দাদার কীর্তিতে উত্থান ও দিদির কীর্তিতে পতন। একজন বড় মাপের অভিনেতা রাজনীতির পাঁকে ডুবে মারা গেলেন।

খুব ছোট বয়স থেকেই তাপসদার ছবি দেখে বড় হয়েছি। খুব বড় মাপের অভিনেতা ছিলেন। ওনার মৃত্যু খুবই দুঃখজনক।

রাজনীতি তে যখন খুব অল্প লোক দিদির পাশে এসেছিলেন তখন উনি পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

যদিও কিছু বিতর্কৃত মন্তব্য/ঘটনার জন্য ওনাকে যথেষ্ট অপমানিত হয়ে সরে যেতে হয়, নিজের দল ও ঠিকমত পাশে দাঁড়ায় নি ওনার, মাননীয়া ও ভুবনেশ্বর গিয়ে শুধু সুদীপ বন্দোপাধ্যায় কেই দেখে চলে এসেছিলেন, তাপস পাল কে দেখতে যাননি.. এখন অবশ্য মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করছেন।

কিন্তু বাঙালি, অভিনেতা তাপস পালকে চিরকাল মনে রাখবে।
ভগবান ওনার আত্মাকে শান্তি দিক।

তাপস পাল সম্পর্কে একটি মূল্যায়ণ ফেসবুক হতে পাওয়া:

একজন মানুষ যিনি চলচ্চিত্র জগতে এলেন, নজির গড়লেন, আপামর জনতার মনের মণিকোঠায় স্থান করে নিলেন। এক কথায় যার জন্য জীবন দিতে রাজি তার দর্শক, যাকে ভালবেসে কত রমণী হয়ত মরমে মরেছেন। 

         একজন বিখ্যাত অভিনেতা, যিনি রাজনীতি তে নামলেন, রাজনীতির ষড়যন্ত্রের চোরাবালিতে পা ফেলাটা ঠিক কতখানি বিপজ্জনক না বুঝে পা ফেলতে থাকলেন, শুরুতে সাফল্য তার বশীভূত  হলেও, তার পরেই পা গিয়ে পড়ল সেই ফাঁদে, যে মরণফাঁদ তার থেকে শুধু জীবনই কেড়ে নিলনা, কেড়ে নিল তার সকল পরিচয়- যাকে বলে আইডেন্টিটি। কেড়ে নিল তার তিল তিল করে অর্জন করা নাম যশ তার মন্ত্রমুগ্ধ Fan দের কে ও।

         তলিয়ে যেতে শুরু করলেন অতল খাদের মধ্যে, যাদের উদ্যোগ  এ খাদে পড়লেন তারা ও লেঙ্গি মেরে ভুলে গেলেন, তাঁকে দেখেও না দেখার ভান করতে লাগলেন তার পুরনো মানুষ গুলো ও। আস্তে আস্তে তিনি গিয়ে ঠেকলেন তলানিতে, যেখানে তার কখনও পৌঁছানোর কথা ছিলনা।

         মাসে মাসে ভুবনেশ্বর যেতে হল হাজিরা দিতে, আস্তে আস্তে সরে যেতে থাকল পরিবার পরিজন রা বন্ধু বান্ধব রা, শারীরিক ও মানসিক দু দিক থেকেই তখন ভেঙ্গে পড়েছেন তিনি, হয়তবা নিজেকেই দুষছেন প্রতিনিয়ত, বা বার বার মেলানোর চেষ্টা করতেন আগের মানুষ গুলো কে আর তখনকার মানুষ গুলো কে।

         মানুষের মনের সেই চিরচেনা মানুষটি হয়ে গেলেন সবার অচেনা, সবার অপ্রিয়,  সবার চেয়ে বেশি অসহায়। যার হারানোর হয়ত আর কিছুই বাকি ছিলনা।

তাই হয়তো ওনার প্রাক্তন সঙ্গী সাংসদ ড‌‌. অনুপম হাজরা মহাশয় টুইট করেছেন: "দাদার কীর্তি তে উত্থান ও দিদির কীর্তি তে পতন"।


  আপনি আমাদের ভীষণ পছন্দের একজন অভিনেতা ছিলেন, আপনার অভিনীত দাদার কীর্তি, ভালোবাসা ভালোবাসা, আশীর্বাদ অগুন্তি বার দেখেছি, নিজের অজান্তেই ভীষণ পছন্দের তালিকায় আপনি পৌঁছে গেছিলেন একদিন , আর আপনার ওই একটি বিতর্কিত মন্তব্যই এক লহমায় একদিন এই মন থেকেই হারিয়েও দিয়ে ছিল আপনাকে , কিন্তু আজ মনেহল সত্যিই হয়ত শিল্পীরা কখনও হারিয়ে যায় না।

           আজ তিনি নেই, শুধু প্রার্থনা করি সবার মনে ওনার সেই ভালোলাগার দিন গুলো বেঁচে থাকুক, যে ভালো লাগা তাপস পাল কে তাপস পাল করে তুলেছিল একদিন। অভিনেতা তাপস পাল বেঁচে থাকুক হারিয়ে যাক অপর সত্তা টি। যেখানেই থাকুন ভালো থাকবেন।।
#RIP #TapasPaul #TapasPal 

Please see other posts in this blog page by clicking "Home" or from "My Favorite Posts" / "Popular Posts" / "Archives" sections, and if any remarks please feel free to post. Thanks & Vande Mataram!! Saroop Chattopadhyay.

Tuesday, February 18, 2020

২০২০ এর নির্বাচনে দিল্লিতে আপের জয় এর সঙ্গে বাংলায় তৃণমূলে প্রশান্ত কিশোর এর প্রভাব এবং ২০২১ এর বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের পরিণাম নিয়ে আগাম ও বাংলায় বিজেপি ও তৃণমূলের ত্রুটিগুলির পর্যালোচনা।।

অনেকেই প্রশান্ত কিশোর (PK) কে আপের দিল্লী জয়ের কারিগর বলেছেন আর ভাবছেন বাংলায় ও তাই হবে, কিন্তু প্রশান্ত কিশোর আপের দায়িত্বে খুব কমদিন কাজ করেছেন... অথচ তার আগেই কেজিওয়াল জী ৩৭০ ধারা কে সমর্থন করেছেন, রাজ্যের উন্ময়নের জন্য কেন্দ্রের বৈঠক বর্জন করেননি, কোনোদিন সংখ্যালঘু তোষণ করেননি।

এছাড়া পঃবঙ্গে সারদা/নারদা, কাটমানির পরিপেক্ষিতে জল ট্যাঙ্কির ভাঙ্গন, কথায় কথায় রাজ্যের সর্ব্বোচ্চ পদাধিকারী রাজ্যপালকে বিভিন্ন অছিলায় অপমান, যা কেজরিওয়াল করেনি বাংলায় হচ্ছে, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলোর নাম বদলে নিজেদের মত করা, যা কেজরী করেনি।


আরেকটা
ব্যাপার হল,
আপের সমর্থকদের আর সোশ্যাল মিডিয়া এর লোকেদের বিজেপির ভক্ত ও অধুনা তৃণমূলীদের মত গালাগালি বা ব্যক্তিগত আক্রমণ ও হেয় করার মানসিকতা কোনোদিন ছিলনা বা নেই।

বর্তমানের বাংলা কিন্তু জানে তারা যে তাপসী মালিক/রিজানূর রহমানকে ইস্যু করে ক্ষমতায় বসেছিল তাদের পরিবারও মনেপ্রানে মর্মাহত। এগুলো কেজরিওয়ালের ক্ষেত্রে হয় নি।

কেজরওয়ালজী এর লেভেল কিন্তু একটা শিক্ষিত মার্জিত, সৎ রাজনৈতিক হিসেবে। অথচ একসময়ের "সততার প্রতীক" লেখাটা বর্তমানে আর দেখা যায়না।

মুখে জয় বাংলা বলে কাজে জয় বিহারী চলছে। পক্ষ আর সম্মেলন গড়েও তৃণমূলীরা তাদের উক্তি অনুযায়ী সেই "গুটখাখোর" দের ই কথায় চলছেন?

PK আসার পরও "ক্যা ক্যা ছি ছি" হয়েছে আবার আড়াই বছর যিনি courtesy ভুলে গেছিলেন তিনি হঠাৎ কাছাকাছি ও হয়েছেন। রাজ্যপাল বিতর্ক চলছে, দেশের সব রাজ্যগুলির জন্য কেন্দ্রের ডাকা বৈঠক ও এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এগুলো দেখে কিন্তু দিদি পুরোপুরি PK এর কথায় চলছেন কিনা সন্দেহ হচ্ছে।

সবচেয়ে বড়কথা দিদি পশ্চিমবাংলায় এসেছিলেন নিজের ক্যারিস্মায়,কিন্তু সমাজের কাছে  বিশ্বাস হারিয়ে পরিস্থিতি এতটাই জটিল করে ফেলেছেন যে ভোটে জিততে নিজের ক্যারিস্মাকে বিসর্জন দিয়ে পন্যসামগ্রীর মত রাজনৈতিক গুরু কিনতেও বাধ্য হয়েছে, তাও বিহারী গুরু।
এর অর্থ দিদির বুদ্ধি বা ওনার দলের বক্সি, পার্থ, অরূপ, ববি, অভিষেক, ডেরেক ইত্যাদির বুদ্ধি আর কাজ করছেনা।

সংখ্যালুদের (মানে দুধ দেওয়া গরুদের, যারা কোনোদিন মালদা বহরমপুর, দিনাজপুরে দুধ দেননি) তোষণ ও তাদের অপরাধ মাফ করে দেয়া, তাদের এলাকায় আইনের শাসন লাগু না করা ইত্যাদি চলছে।

দিদি যদি রাজদন্ড নিয়ে বাংলায় আপনি হিন্দু-মুসলমানকে সমান চোখে দেখেন পরিস্থিতির জটিলতা কমবে নচেৎ সারা বাংলায় একদিন ভীষণ ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।

আর একটি কথা কাটমানির জন্য একই রাস্তা সারাবছর ধরে খোড়ার রেওয়াজ বন্ধ করতে হবে।

যদিও এত আগে কোনো নির্বাচন সম্পর্কে ভবিষ্যতবাণী করা দুষ্কর তবু আমার মতে, এইসব সত্বেও বর্তমানের পরিস্থিতি অনুযায়ী (যদি একই পরিস্থিতি থাকে) ২০২১ এ আবার তৃণমূল আসতে চলেছে যদিও তাদের আসন ১৭৫ (+/- ১০%) মত থাকবে বলেই মনে হচ্ছে ।।

কারণ এখানে আসামের "NRC & Detention Camp" এর স্মৃতি ও দিল্লির মত বাংলার বিজেপি দের নেতাদেরও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, কুকথা, হুমকি, অবাঙালিদের প্রাধান্য ইত্যাদি সাধারণ বাঙালিদের মনে খুব বাজে প্রভাব ফেলেছে।।

এখন দেখার আগামী একবছরে তৃণমূল ও বিজেপি নিজেদের কতটা শোধরাতে পারে ও বাংলার মানুষকে কতটা নিজেদের কাছে টানতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল দিল্লিতে যেমন কংগ্রেস ও বামেদের ভোট শেয়ার নগণ্য ছিল বাংলায় কিন্তু তেমনটি হাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।


Please see other posts in this blog page by clicking "Home" or from "My Favorite Posts" / "Popular Posts" / "Archives" sections.
Also if you have any remarks please feel free to post.
Thanks, Jai Hind.. Vande Mataram!! Saroop Chattopadhyay.

Some recent posts

ভগবান রামচন্দ্র (রঘুবীর) ও ঠাকুর শ্রী রামকষ্ণ পরমহংস দেব, আর বর্তমানের সেক্যুলার (আসলে সিক কুলার) গণ।

শ্রীরামকৃষ্ণের কুলদেবতা ছিলেন ৺রঘুবীর। তিনি নিজে  দেবতার কবচ পরতেন, তাঁর পার্থিব শরীর পঞ্চভূতে লয় হওয়ার পরবর্তী সময়ে শ্রীমা সেই পবিত্র কব...