Saturday, June 24, 2017

কে এই বিমল গুরুং? Who is Bimal Gurung (Political life so far)


আমারা যারা ভাবি,ওই তো সেদিন ২০০৭ সালে ইন্ডিয়ান আইডলের প্রতিযোগী প্রশান্ত তামাংকে নিয়ে আন্দোলন করে উঠে এসেছিলো।বন্ধু,ওটা ছিলো ওর রাজনৈতিক জীবনের দ্বিতীয় আবির্ভাবের টিকিট।বৃদ্ধ সুভাস ঘিসিং এর পক্ষে মাঠে নেমে আন্দোলন করা ছিলো অসম্ভব আর গোর্খারা ঘিসিং এর উপর আস্থা হারিয়ে খুঁজছে নতুন নেতা।তাই প্রশান্ত তামাং ইস্যু হাতছাড়া করেনি গুরুং,লুফে নেয়।আর গোর্খা সেন্টিমেন্টকে ব্যবহার করে আবার প্রচার আলোয় আসে।


চা শ্রমিক পরিবারের ছেলে অল্প বয়সে সংসারের হাল ধরতে পড়া ছেড়ে রোজগারে নেমে পরে,১৯৮৬ সালে  GNLF যখন গোর্খা ল্যান্ডের দাবীতে সশস্ত্র বিপ্লবে নামে তখন ২৪ বছরের গুরুং GNLF এর যুব শাখা Gorkha Volunteers Cell এ যোগদান করেন,আবার ১৯৮৮ সালে যখন রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের প্রস্তাবিত Darjeeling Accord মেনে GNLF Darjeeling Gorkha Hill Council মেনে নেয়,তখন গুরুং GNLF ছেড়ে বেড়িয়ে যায়।আর নিজের মতো কাজ শুরু করে।


১৯৯৯ সালে খুন হয় DGHC  এর তুকভার নির্বাচনী ক্ষেত্রের কাউন্সিলর রুদ্র প্রতাপ।তার জায়গায় একজন ইন্ডিপেনডেন্ট প্রার্থী হয়ে জিতে আসে গুরুং, সাথে সাথে GNLF ওকে দলেটেনে DGHC এর যুব ও ক্রীড়া দপ্তরের ভার দেয়।



২০১২ সালে GTA গঠিত হওয়ার পর রাজ্য সরকার ক্ষমতা দিলো,টাকা দিলো উন্নয়ন করার জন্য।

রাজ্য ফেরতে কি পেলো?বিশ্বাসঘাতকতা??

কোথায় কি খরচা করেছেন,সেটা জানতে চাইলে বাংলা জ্বালাও?
আপনার পালানো ছাড়া এখন আর পথ নেই।
মমতা ব্যানার্জ্জী যে বিশ্বাস করেছিলেন তার প্রতিদান এই?গোর্খারা প্রতিদানে অটুট থাকেন।গুরুং তুমি গোর্খা নামের কলঙ্ক।। 

 
বাংলা বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ,বলছে যে পাহাড়ের সমস্যা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার হস্তক্ষেপ করতেই পারে । হু করুক ... কিন্তু প্রশ্ন ওঠে যে আরো কিছু ঘটনাবলী তে কেন কেন্দ্রীয় সরকার হস্তক্ষেপ করেনা । তার জবাব কি রাজ্য সভাপতি দেবেন ???
 
1) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর অনেক দিনের দাবী, cpim যে ঋণ করে গেছে তা মুকুব করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের হেলদোল নেই কেন ???
2) বাংলা থেকে প্রতি বছর সুদের টাকা হাতে পেয়ে কেটে নিচ্ছে অথচ বাংলার প্রাপ্য অর্থ আটকে রেখেছে কেন ???
3) কেন্দ্রীয় সরকার মশা কে ডাইনোসর আখ্যা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে । রাজ্যর মতামত তো দূর কি বাত, জানানোর প্রয়জন পর্যন্ত করেনা, কেন ???
4) কেন্দ্র জি,টি,এর সদস্য তাই যদি হস্তক্ষেপ করতে পারে ? তাহলে বাংলাও তো ভারতের রাজ্য, তাহলে কেন্দ্র একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেবে কেন ???
5) একখানা লোকসভা জিতিয়ে.....বিমল গুরুং কে যদি এতটা গুরুত্ব দিতে হয় ? তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর মতামত কে কতটা গুরুত্ব দেওয়া উচিত ???
6) বিজেপি কেন হস্তক্ষেপ করবে ? তবে কি বিমল গুরুং এর উপর আস্থা হারালো বিজেপি ??? পাহাড়ের ও বাংলায় পাওয়া একমাত্র লোকসভা সিট নিয়ে বিজেপি কি সিঁদুরে মেঘ দেখছে ???
7) পাহাড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গেলে ও মন্ত্রিসভার বৈঠক করলে গুরুং সহ বাংলার বিরোধীদের সমস্যা কিসের ? তবে কি পাহাড়ে গুরুং এর দিন শেষ ???
8) গুরুং যদি সত্যই পাহাড়বাসীর জন্য কাজ করে থাকে ? তাহলে এতো ভয় কিসের ? নির্বাচনেই পাহাড়বাসী জবাব দেবে । উল্লেখ্য গত বিধানসভায় মরার খাট থেকে উঠে মৃতদেহ বলল "আমরা ডবল সেঞ্চুরির দিকে এগোচ্ছি" মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো ভয় পায়নি ! তিনি বলেছেন বাংলার মানুষ জবাব দেবে ।
9) কিছু বলার আগে বাংলার বিজেপির মনে রাখা উচিত । সমগ্র বাংলায় ই উন্নয়ন হয়েছে একমাত্র পাহাড় ছাড়া । আর পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য কেন্দ্র মাত্র 600 কোটি টাকা দিয়েছে । কিন্তু বিশাল ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর সরকার GTA কে 1400 কোটি টাকা দিয়েছে । মোট 2000 কোটি টাকা, আর এই 2000 কোটি টাকা পাহাড় এর উন্নয়নের জন্য কম নয় । অর্ধেক টাকাও যদি গুরুং উন্নয়ন খাতে খরচ করত? তাহলে আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাহাড়ে যদি প্রতিদিন ও জনসভা করতেন ? তাহলেও গুরুং এর চিন্তার কিছু ছিলনা । কিন্তু সেটা করেনি এতএব ফল ভুগতে হবে ।
10) পাহাড়ে উন্নয়ন করার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিমল গুরুং কে 5 বছর সময় দিয়েছে,সঙ্গে টাকাও দিয়েছে । কাজের কাজ হয়নি..... উল্টে পাওনা । মোর্চার জঙ্গি আন্দলন আর গোর্খাল্যান্ডের দাবী ... আগামী লোকসভা ভোটের কমপক্ষে দের বছর বাকি । একজন অবিভক্ত বাংলার বঙ্গবাসী হিসাবে আমি দাবী জানাচ্ছি । এই দের বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর তত্বাবধানে তৃণমূল কংগ্রেস জি,টি,এর সদস্য হিসাবে পাহাড়ের উন্নয়নের কাজ করুক । তারপরও যদি পাহাড়বাসী আগামী লোকসভায় বিমল গুরুং এর কথা অনুযায়ী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে ? অথবা গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে সরব থাকে ? তখন না হয় বিমল গুরুং কে গুরুত্ব দেবেন ? একজন বঙ্গবাসী হিসাবে বাংলার বিরোধীদের কাছে ও বিজেপির রাজ্য সভাপতির কাছে এটুকু আশা তো করতেই পারি ?
 
সঙ্গে এটা নিশ্চই বলতে পারি ...... যে বিমল গুরুং এর জনসমর্থন চিরকাল থাকবে না । মোদীজী ও চিরকাল প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও চিরকাল মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন না । দিলীপ ঘোষ ও চিরকাল থাকবে না । বাংলার বিরোধীরাও না । কিন্তু একটা জিনিস চিরকাল থাকবে আর সেটা হলো ইতিহাস । তাই বিনীত অনুরোধ ইতিহাসের পাতায় বাংলা ভাগের নায়ক হিসাবে নিজের নামটা নাইবা লেখালেন ???
 
 
1952 প্রথম গোর্খাল্যান্ড দাবী করলো কে? 
রতনলাল ব্রাম্ভণ। 
দল কি? 
কম্যুনিস্ট। 
পরে সেই দাবীতেই পাহাড় উত্তাল করলো কে? 
সুভাষ ঘিসিং।
পরবর্তী কালে বন্ধু কার? 
অশোক ভট্টাচার্য। 
দল কি? 
সিপিএম। 
সেই গোর্খাল্যান্ড দেখিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসবাদ করছে কে? 
বিমল গুড়ুং। 
জোট শরীক কার? 
বিজেপি।

Please see other posts in this blog page by clicking "Home" or from "My Favorite Posts" / "Popular Posts" / "Archives" sections, and if any remarks please feel free to post.
Thanks & Vande Mataram!! Saroop Chattopadhyay.

No comments:

Post a Comment