Monday, February 12, 2018

Some thoughts about Love Jihad during this Valentine Week & Valentine’s Day written by --Zinna Ahmed. প্রেম-দিবসের প্রাক্কালে 'লাভ-জিহাদ' নিয়ে কিছু কথা লিখেছেন জিন্না আহমেদ


সম্প্রতি লাভজিহাদশব্দটি ভারতীয় উপমহাদেশের ভাষা-শব্দভান্ডারে তাৎপর্যপূর্ণ  শব্দ হিসেবে নিজের জায়গা নির্দিষ্ট করে নিচ্ছে। শব্দটি যদিও ভারতের উগ্র-হিন্দুত্ববাদী সংগঠণগুলির  মস্তিষ্কপ্রসূত, তবু এর বিষয়তাৎপর্যকে ধারণ করেছে প্রায় সমস্ত ধর্মের উগ্র-মতাবলম্বীরা।  সম্প্রতি আন্তঃধর্মের প্রেমের অপরাধে খুন হয়ে গেলো অঙ্কিত সাক্সেনা। এখানে মুসলিম পরিবারের হাতে খুন হয়েছে হিন্দু যুবক, আর রাজস্থানে এই অভিযোগেই হিন্দুপ্রচারকের হাতে খুন হয়েছে মুসলমান শ্রমিক। বাংলাদেশ ভারতে একই অভিযোগের কন্ঠস্বর শোনা যায় মুসলমান হিন্দু মৌলবাদীদের কন্ঠে। দুটি দেশেই লাভজিহাদেরঅভিযোগে  বারবার আক্রান্ত হয়েছে  তথাকথিত ভিন্নধর্মের যুগলেরা। 


লাভ জিহাদনিয়ে যতই সোরগোল তোলো না কেন বাছা, ‘লাভে মধ্যেই যে  ‘জিহাদে শর্ত নিহিত থাকে তা তোমাকে মানতেই হবে। প্রতিটি যুগেই ভালবাসার জিহাদ তো  ভালবাসাহীন নির্মম সমাজের দিকে ছুঁড়ে দিয়েছে চ্যালেঞ্জ। সামন্ততান্ত্রিক রক্তচক্ষুর বিরুদ্ধে তাকে রুখে দাঁড়াতে হয়েছে। ভালবাসা চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে ক্ষয়িষ্ণু মূল্যবোধকে, সনাতন প্রথাকে,পরিবারকে, ধর্মকে, এমনকি রাষ্ট্রকেও।  সামন্ততান্ত্রিক মূল্যবোধের ঠুলি চোখে পড়ে থাকলে ভালবাসার শক্তিকে অনুভব করা  সম্ভব নয়। আন্তঃধর্মেরঃ বিয়ের কথা দূরে থাক, সনাতন সমাজের তাঁবেদারেরা এই প্রজন্মের স্বধর্মের তরুণ-তরুণীদের সাধারণ মেলেমেশাকেও সহ্য করতে পারে না, মেনে নিতে পারে না বলেই এই প্রজন্মের নিজস্ব পছন্দের বিয়েকে লাভ- মেরেজআখ্যা দিয়ে তাদের সামাজিকভাবে আলাদা করতে চায়। পাশাপাশি যে অ্যারেঞ্জ-মেরেজে পক্ষে তারা সাওয়াল করে তাতে মানবতার অপমানের দিকগুলিকে ঐতিহ্য বলে গৌরবান্বিত করে তুলতে চায়। সেই অর্থে আমাদের অবক্ষয়িত সমাজে লাভ-মেরেজআসলে লাভ-জিহাদ

সমাজের স্থিতাবস্থার কর্ণধারেরা চিরকালই প্রেমের বিপক্ষে, তা সেটা স্বধর্মেই হোক বা বিধর্মে। মোঘল সম্রাট আকবরের পুত্র সেলিম আর রাজ্যের নর্তকী অনিন্দ্য  সুন্দরী আনারকলির প্রেম সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। প্রেমের জন্য এত বড় আত্মত্যাগ এই উপমহাদেশে  এক বিরল দৃষ্টান্ত। সম্রাট আকবর এই সম্পর্ক মেনে নেন নি। কিন্তু প্রেমশক্তিতে দুর্নিবার সেলিম পিতার বিরুদ্ধে ঘোষনা করে লাভ-জিহাদ কিন্তু   শক্তিশালী আকবরবাহিনীর কাছে সেলিম পরাজিত হয়। নিজ সন্তানের মৃত্যুদন্ড ঘোষনা করে আকবর। সেলিমকে বাঁচাতে আনারকলি নিজের জীবনের বিনিময়ে সেলিমের প্রাণ ভিক্ষা চায়। অবশেষে সেলিমের চোখের সামনেই আনারকলিকে জীবন্ত কবর দেওয়া হয়। ভালবাসাকে বারবার পরীক্ষিত হতে হয়েছে তার অভ্যন্তরে জিহাদ আছে বলেই। 


লাভ-জিহাদতো আন্তঃধর্মের পরিণয় সংক্রান্ত বিষয় নয়। আমাদের শাশ্বত প্রেমের জুটি  রাধা-কৃষ্ণের দিকে একবার চোখ ফেরানো যাক। রাধিকা ছিলেন আয়ান ঘোষের স্ত্রী এবং সম্পর্কে  কৃষ্ণের মামিমা। বৈষ্ণব-পদাবলীর অভিসারপর্যায়ের পদগুলির দিকে তাকালেই বোঝা যাবে সামাজিকভাবে অবৈধ এই প্রেম ছিল কতটা দুর্নিবার! প্রেমের জিহাদ তো শাশ্বত প্রমের যুগল মূর্তিতেই রয়েছে। জিহাদের আরো নমুনা আছে মথুরা পর্যায়ে কৃষ্ণের আর এক প্রেমকে কেন্দ্র করে। কৃষ্ণ রুক্মিণীর কাছ থেকে পত্র পেলেন তার পিতা বিদর্ভরাজ  তার সাথে শিশুপালের  বিবাহ স্থির করেছেন, কিন্ত রুক্মিনী ভালোবাসেন কৃষ্ণকেই। সুতরাং কৃষ্ণ যেন তাকে উদ্ধার করেন। বলরাম সবই জানতেন। রুক্মিনীর পত্র দেখা মাত্র ঠিক করলেন তিনি বিদর্ভ আক্রমণ করবেন ঠিক হল কৃষ্ণ রুক্মিনীকে মন্দির থেকে রথে তুলে পালাবেন। বলরাম বিদর্ভের রাজধানী অবরোধ করে রাখবে, যাতে  কোন সেনা কৃষ্ণের পেছনে না আসতে পারে। এই পর্বে বলরামের একটা উক্তি মহাভারতে খুবই   উল্লেখযোগ্য তা হলো, “বিদর্ভরাজকে সভ্যতা সেখানো দরকার”! অর্থাৎ যেসব গোষ্ঠি তাদের কন্যাকে স্বয়ংবরের সুযোগ দেয় না, তাদের অসভ্য বললেন বলরাম,

মহাভারতে আমরা আরও দেখেছি যে অর্জুন যখন  জানলেন সুভদ্রা তাকে ভালোবাসেন ( এবং তিনিও সুভদ্রার প্রেমে বিভোর) , কিন্ত তার বিবাহ দুর্যোধনের সাথে হবে তখন তিনি কৃষ্ণের কাছে মার্গ দর্শন চাইলেন কৃষ্ণ বললেন, ‘এই ক্ষেত্রে ক্ষত্রিয় মার্গ একটিই ! সুভদ্রাকে নিয়ে পালাও! রথ পাঠিয়ে দিচ্ছি’! তাহলে একটা ব্যপার বেশ  পরিস্কার, পুরাণে মহাকাব্যে যেটুকু ধর্মীয় স্বাধীনতার নিদর্শন রাখা হয়েছেবর্তমানে ধর্মবাদীরা সেটুকুও মানে না।


এই সমস্ত পুরাণ কাহিনি থেকে আমরা কী শিক্ষা নেব? যুগলেরা নিজের সিদ্ধান্ত নিজেরা নেবে নাকি তথাকথিত সমাজের দন্ডমুন্ডের কর্তারা নেবে? অজস্র উদাহরণ দেওয়া যায়। হিন্দুধর্মের পৃষ্ঠপোষকেরাই উদাহরণগুলো হজম করতে পারবেন না।চর্যাপদের  অভ্যন্তরস্থ কাহিনি বিশ্লেষণ করে ১০ সংখ্যক পদে দেখা যায় কাহ্ন নগরের বাইরে অচ্ছুত কোন এক ডোম্বীর উদ্দেশে প্রেম নিবেদন করেছে এবং১৯ সংখ্যক পদে দেখা যায় বাদ্য বাজিয়ে সেই ডোম্বীকে  বিবাহ  করতে যাচ্ছে।


এই অপরূপ প্রেমের অভিঘাতে কি সমাজের স্থিতাবস্থা টাল খায় নি? টাল খেয়েছে কিন্তু অনার কিলিংহয় নি। অথচ অধুনা সমাজে অনার-কিলিংকে তাত্ত্বিক ভিত্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। মুসলমান সাজিয়ার  সাথে প্রেম করার জন্য হিন্দু অঙ্কিত সাক্সেনাকে তার প্রেমিকার ভাই এবং বাবা দিল্লীর রাস্তায় সবার সামনে কুপিয়ে খুন করেছে। লোকেরা সেই দৃশ্য মোবাইলে তুলতে ব্যস্ত ছিল-কেউ এগিয়ে আসেনি তাকে বাঁচাতে। রাজস্থানে কর্মরত শ্রমিক আফরাজুলকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হলো লাভ-জিহাদে অভিযোগে। এই হত্যাকান্ড ভিডিও তে ছবি তুলে ভাইরাল করা হলো অন্যদের আতঙ্কিত করার জন্য। 

শুরুর কথা দিয়েই শেষ করি। সব সময়ই প্রেম অপ্রতিরোধ্য। লাভ-জিহাদেরঅজুহাতে অথবা অনার-কিলিংশিরোনামে এর গতি রুদ্ধ করার চেষ্টা মানেই ইতিহাসের অমোঘ স্রোতের বিপক্ষে যাওয়া। আমরা এই কথাগুলি বলছি লাভ-জিহাদের ঐতিহাসিক শিবির থেকে, যে শিবিরে প্রেমই একমাত্র ধর্ম, তাই ধর্মান্তরকরণের কোন প্রশ্ন নেই,আছে পূর্ণ-মানবিক পৃথিবীর প্রতিশ্রুতি।
লিখেছেন --Zinna Ahmed Edited By Saroop Chattopadhyay

Please see other posts in this blog page by clicking "Home" or from "My Favorite Posts" / "Popular Posts" / "Archives" sections, and if any remarks please feel free to post.
Thanks & Vande Mataram!! Saroop Chattopadhyay.

Friday, February 9, 2018

Appeal to Hon CM of West Bengal Smt Mamata Banerjee to look at this matters of irregularities in Lt Lady Ranu Mukherjee's dream Academy of Fine Arts. Please Didi only you can save this historical society from some picture & art agents and some selfish theatre groups, who are joining hand with corrupt (?)section of management even ignoring judiciary.

#AcademyOfFineArts
Presently (7/2/18) Vacant: Central Gallery
West Gallery
North Gallery
South Gallery
Only New South Gallery exhibition is going on, theatre hall also not fully booked.

#Musium closed over 10yrs. Allegedly valuable items are missing, 3 employees not getting salary over 1yr, but Artists (including TMC leader & TMC minded BUDDHIJIBIS) are more interested to remove Mamata Banerjee 's pic from Academy's #INTTUC office.

Which was done.
Hope our party's theatre personalities are happy as our Mother like Hon Didi's pics are removed.

But our demands stands:
👉Immediate start of salaries for 3 employees.
👉Musium to be opened immediately and proper enquiry should be done to ensure original arts, sculpture & other valuable items are still there or replaced.
👉 Last annual exhibition's pending money to vendors & prize money to artists should be given.
👉  How come Kabiguru #Rabindranath 's hair's gold pot became black?
👉 Why Academy will loose money for Vacant galleries & for giving galleries in low price.
👉  Why proper maintenance will not be done?
👉 Why Academy will function from outside? It should run from Academy, not from anyone's drawing room.


Our request to Hon. CM our beloved Didi Mamata Banerjee, please take care of this matter. 

Today is a sad day for us as we were forced to remove your pictures 😔😖 but hope there will be sunrise very soon & you (Hon. #MamataBanerjee) will take control of this situation very soon.. because we know you're an art lover & this Academy of Fine Arts situated in your assembly area only.

Only one earnest request with folded hands please don't take decision with consulting few renowned person otherwise TMC will also became like Congress's KOTHRI Politics.
Please visit once meet all and take decision & fulfill Lt. Lady Ranu Mukherjee's dreams that this Academy of Fine Arts is for all artists (small or big) & for all theatre groups (small or big).
 🙏🙏🙏🙏

--
To know the details about mismanagement in Academy, please check: https://mamatimanushofwb.blogspot.in/2017/09/academy-of-fine-arts-kolkata-appeal-to.html?m=0


To know about public's protest against this mismanagement and movement of #SaveAcademy (which having 1000+ artists & art lovers with them) & present situation please read
mamatimanushofwb.blogspot.in/2017/12/a-huge-candle-march-protest-rally-was.html?m=0

Please see other posts in this blog page by clicking "Home" or from "My Favorite Posts" / "Popular Posts" / "Archives" sections, and if any remarks please feel free to post. Thanks & Vande Mataram!! Saroop Chattopadhyay.

Thursday, February 8, 2018

বিজেপী ও সিপিএম বর্তমানে ক্রন্দনরত কারন পাহাড় আবার হাসছে। দীর্ঘ ৭ মাস পর পাহাড়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। “আমরা পাহাড়ের উন্নয়ন চাই।আমরা বিভেদের রাজনীতি চাই না।বনধের খেলা বন্ধ হওয়া উচিত দার্জিলিঙে বললেন আমাদের সবার প্রিয় মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।


An in-depth analysis of Darjeeling & Gorkhaland problem and success story of Smt. Mamata Banerjee by resolving crisis which was created by Chinese Nepali Maoists with the help of some dumb local political leaders & also due to BJP’s lack of political support plus their plan to disturb Bengal.

Written jointly by Mr. Anupblab Ghosh & Mr. Saroop Chattopadhyay for MMM-Blog.
 
যে দার্জিলিং-এ চিত্তরন্ঞ্জন দাসের গন্ধ আছে, রবীন্দ্রনাথের ছন্দ আছে, সুভাষ বোসের অনুভব আছে, ভগিনী নিবেদিতার শেষ পদচিহ্ন আছে, সেই দার্জিলিং বাঙালি কিংবা গোর্খার হতে পারেনা। দার্জিলিং 'বাংলার' হৃৎপিন্ড।
দীর্ঘ ৭ মাস পর পাহাড়ে গেলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ৫ ও ৬ February তিনি রোহিণীতে সুভাষ ঘিসিং মার্গের নামকরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আজ তিনি উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া দপ্তরের সহযোগিতায় শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট তথা দার্জিলিং জেলা পুলিশ আয়োজিত হিমল তরাই ডুয়ার্স ক্রীড়া উৎসব ২০১৮-র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে।
আসুন আমরা দার্জিলিং ও গোর্খাল্যান্ড পরিস্তিতির ব্যাপারে বিস্তারিত আলচনা করি।
 
গোর্খাল্যান্ড একটি পুরাতন ভারতবিরোধী চীন ও নেপাল (কমিউনিস্ট-মাওবাদী) যৌথ পরিকল্পনা এবং এটি ভারতের নিরাপত্তার জন্য বিপদ। কারণ এটি সিকিমসহ বৃহত্তর নেপালের দিকে একটি প্রথম পদক্ষেপ।
ভারত সরকার এবং বিশেষভাবে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি জাতীয় স্বার্থ কে অগ্রাধিকার দিতে হবে একটি বা দুটি লোকসভা আসন এর চেয়ে ।
গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনকে বিরোধিতা করা মানে হিন্দী / নেপালি / বাংলা বিরোধিতা করা না। গোর্খাল্যান্ড হচ্ছে একটি পুরানো চীন ও নেপাল (কমিউনিস্ট-মাওবাদী)দের পরিকল্পনা যা মানচিত্রে  - গোরখাপুর হতে দার্জিলিং এবং সিকিম পর্যন্ত বিস্তৃত! 50% নেপালী অভিবাসী এবং 30% তিব্বত।
চীনের দালাল নেপালের ও ভারতীয় নেপালি অঞ্চলের লোকেরা "বৃহত্তর নেপাল  চায়
-এই দাবীর মধ্যে সিকিম এবং তথাকথিত গোর্খাল্যান্ড অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত।
প্রকৃতপক্ষে  শিলিগুড়ি করিডোর কাটিয়ে চীনের ভারতীয় প্রধান ভূখণ্ড থেকে ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে তীব্র আকৃষ্ট হওয়াই উদ্দেশ্য। এবং এই গোর্খাল্যান্ড/দার্জিলিং অত্যন্ত সংবেদনশীল শিলিগুড়ি করিডোর বা চিকেন এর নেক এলাকায় ডানদিকে অবস্থিত।
চীন এর নেপালি সহযোগীগণ তাদের সম্ভাব্য সব উপায়ে তাদের চীনা paymasters সাহায্য করা হয়। ভারত এই বিষয়ে অত্যন্ত সতর্কতা সঙ্গে চলতে উচিত।
 
 
দার্জিলিং ও গোর্খাল্যান্ড পরিস্তিতি:
১৯৫২ র লোকসভা নির্বাচনে, শুধু নিজে জেতার জন্যে, আলাদা গোর্খালিস্তানের দাবি তুলে কম্যুনিস্ট পার্টির প্রার্থী "রতনলাল ব্রাহ্মণ" যে অশান্তির আগুন পাহাড়ে জ্বালিয়েছিলেন, গত ৬৬ বছর ধরে সেই আগুনেই পাহাড়ের রাণী 'দার্জিলিং' পুড়েছে। 
কখনও কার্শিয়াং, কখনও রোহিণী। কখনও ঘিসিং, কখনও গুড়ুং। পাহাড় এবং পাহাড়িদের, এই  দুর্ভোগ আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থেকেছে বিগত ৬৬ বছর ধরে। ফি বছর ভোট, আর ফি বছর একে বা ওকে সমর্থন। ভোট ফুরোলেই আবার গোর্খাল্যান্ডের স্লোগান!! আবার ৭২ ঘণ্টা বা ৯৬ ঘন্টার পাহাড় বনধ্। 
 
এভাবেই ১৯৫২ সাল থেকে কম্যুনিস্টদের দ্বারা সৃষ্ট বিচ্ছিন্নতাবাদী ও ধান্দাবাজীর রাজনীতি চলে আসছে। এভাবেই কখনও 'আনন্দ পাঠক', কখনও 'ইন্দরজীৎ খুল্লার', কখনও 'দাওয়া নরবুলা', কখনও 'যশোবন্ত সিং' তো কখনও 'সুরিন্দর সিং আলুয়ালিয়া'।
পাহাড়ি মানুষের সন্তানদের জন্যে মাধ্যমিক স্কুল নেই, ডাক্তারের পরামর্শে বড়লোকের স্বাস্থ্য উন্নতির ব্যবস্থা থাকলেও সাধারণ মানুষদের জন্যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নেই। বিদ্যুৎ নেই, পানীয় জল নেই, রাস্তাঘাট নেই, দিন গুজরানের সামান্য উপার্জন নেই। পাহাড়চূড়ায় সূর্যোদয় হলেও, ৬৬ বছর ধরে পাহাড়ের মানুষ কিন্তু সকাল দেখেনি।
 
প্রথম ছন্দটা কাটলো ২০১১ সালে। মমতা ব্যানার্জী বললেন  - "আমার পাহাড় কেন দ্বিতীয় সুইজারল্যান্ড হবেনা?" মমতা ব্যানার্জীর সংকল্প কিন্তু পাহাড়ের মতোই অবিচল। স্বাধীনতার ৭০ বছর বাদে প্রথম উত্তরবঙ্গের মানুষের ঘরে উন্নয়ন এবং সরকারকে পৌঁছে দিতে, তৈরি করলেন দ্বিতীয় সচিবালয় - "উত্তরকন্যা"। শুরু হলো পথচলা।
 
শুধু রাজবংশী বা কামতাপুরীই না। লেপচা, তামাং, গোর্খা প্রতিটা জনজাতির ছোট ছোট আশা আকাঙ্ক্ষা কে মর্যাদা দিতে তৈরি করলেন, আলাদা আলাদা উন্নয়ন পর্ষদ। নিজে প্রায় ঘরবাড়ি বানিয়ে ফেললেন ৭০ বছরের অবহেলিত পাহাড়ে। রাস্তা, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, শিল্প সম্মেলন, পর্যটন সম্মেলন, চা বাগানে রেশন, চা শ্রমিকদের চিকিৎসা, ভানু ভক্তর ছবিতে মালা দিয়ে সাহিত্য গবেষণা কেন্দ্র, সরকারী পরিবহন পরিষেবা, বিদ্যুৎ সংযোগ, পাগলের মতো শুরু হলো ঘরে ঘরে উন্নয়ন আর সরকারকে পৌঁছে দেওয়ার যুদ্ধ।
 
প্রমাদ গুনলো ভোটহিসাবি দিল্লীর বাবুরা। ওরা উন্মাদের মতো আচরণ করতে শুরু করলো। ইন্দো টিবেটিয়ান বর্ডার ফোর্স এর চোখ বেঁধে নাকের ডগা দিয়ে পাহাড়ে ঢুকতে থাকলো চীনের বিস্ফোরক, নেপালের বন্দুক, বিদেশী হাতিয়ার। আড়কাঠির ভুমিকায় অবতীর্ণ এক প্রতিবেশী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। লুক আউট নোটিশ জারি হওয়া অপরাধীদের ডেকে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের দফতরে প্রকাশ্য ভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রত্যাহার করে, সন্ত্রাসের ব্লু প্রিন্ট করে দিলেন। বইয়ের তাকে, লজ্জায় সংবিধান মুখ ঢাকলো, কিন্তু ওরা নির্লজ্জ। আগুন জ্বালিয়ে দিলো মমতা ব্যানার্জীর ভালোবাসার পাহাড়ে। কেউকেউ তো ইস্ত্রী করা চোস্তা পাঞ্জাবি পরে চলে গেল দিল্লী। স্যার দেখুন! রাজ্য সরকার পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ। গোর্খা - বাঙালি দাঙ্গা পরিস্থিতি। রাষ্ট্রপতি শাসন বাদে রাস্তা নেই।
 
মমতা ব্যানার্জী একটাও উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। কারণ, উনি বিশ্বাস করেন, এটা গুজরাট নয়, এটা বাংলা। বাঙালি যখন লড়াই করে, তখন দেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। দার্জিলিং 'বাংলার' হৃৎপিন্ড। মমতা'র অবিচল আত্মবিশ্বাস আর সংকল্পের সহযোদ্ধা হয়ে উঠলো পাহাড়ের প্রতিটা মানুষ। মানুষের প্রতিবাদ প্রতিরোধে ব্যর্থ হলো সমস্ত ষড়যন্ত্রের আক্রমণ। পাহাড়ের মানুষ বুঝেছে, ওরা ভোটের পাখি দেখে তীর ছোঁড়ে। মমতা কিন্তু উন্নয়নের চোখকে নিশানা করে এগিয়ে যায়।
আসলে ওদের লড়াই - শুধুই ভোটে জেতার। মমতা ব্যানার্জীর লড়াই - ৬৬ বছর অনুন্নয়নের অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলোর হৃদয় জেতার।
 
 
মুখ্যমন্ত্রীর পাহাড়ে দেওয়া বক্তব্যের কিছু অংশ:
“উপস্থিত সকলকে আমার ধন্যবাদ। সফল খেলোয়াড়দের প্রতি বছর আমরা পুরস্কার বিতরণ করি। যারা সফল হয়েছেন তাদের সিভিক ভলেন্টিয়ারের পদে নেওয়া হবে।
বাংলার সরকার কখনও দার্জিলিঙের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করে না। আমরা সব ধর্ম, জাতি, শ্রেণী ও বর্ণের মানুষকে শ্রদ্ধা করি।
আপনার দার্জিলিং আপনাকেই সামলাতে হবে, সেইজন্যই সকলে মিলে জিটিএ তৈরি হয়েছে। বাংলার সরকার তাদের সব রকম সহযোগিতা করে।
আমাদের শান্তি রক্ষা করতে হবে। আপনারা ভালো থাকুন, শান্তিতে থাকুন। দার্জিলিঙে পর্যটকরা না এলে আপনাদের অর্থনীতি চলবে কি করে?
বনধের খেলা বন্ধ হওয়া উচিত। আপনাদের যা দাবি আপনারা নিশ্চয়ই তা চাইতে পারেন।
বাম আমলে মুখ্যমন্ত্রী পাহাড়ে আসতেন না। অথচ আমি ২-৩ মাস পর পরই পাহাড়ে আসি।
আমি ভোট পাওয়ার জন্য আসি না। আমি মানুষের জন্য কাজ করি।
আপনাদের ভবিষ্যতের জন্য শান্তিতে দার্জিলিং সামলানো উচিত। ছাত্র-যুব, মা, ভাই-বোনেদের জন্য আপনাদের শান্তি বজায় রাখা উচিত।
দার্জিলিং বাংলার অঙ্গ। দার্জিলিং পর্যটনের জন্য সারা বিশ্বে বিখ্যাত।
সিকিমে পর্যটক গেলে সিকিমের লাভ বেশি, দার্জিলিঙে সমস্যা হলেও সিকিমের লাভ হয়। কিন্তু ওরা টাকা দিয়ে দার্জিলিং এর শান্তি নষ্ট করতে চায়। সিকিমের তুলনায় দার্জিলিঙের সৌন্দর্য কম নয়।
যখনই আমরা পাহাড়ের জন্য উন্নয়ন করি তখনই ওরা এসে আমাদের লোকসান করে দিয়ে যায়। এর ফলে আমরা ১০ বছর পিছিয়ে পরি। আমরা এটা চাই না।
টাকা দিয়ে দার্জিলিং কে কেনা যাবে না। দার্জিলিং কে মন দিয়ে জয় করতে হবে।
আমি বিশ্বাস করি দার্জিলিং-এ ভালো শিল্প হাব, পর্যটন হাব, আইটি হাব হতে পারে। অর্কিড, ফুলের চাষ ভালোভাবে হতে পারে।
আমরা পাহাড়ের উন্নয়ন চাই। আমরা বিভেদের রাজনীতি চাই না।  
দার্জিলিঙে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ। পর্যটকরা এখানে ফিরে আসছেন। এটা খুব ভালো লক্ষণ। দার্জিলিঙে আরও অগ্রগতি হোক।
আমরা চাই কাঞ্চনজঙ্ঘার হাসি যেন অমলিন থাকে।“  
 
Please see other posts in this blog page by clicking "Home" or from "My Favorite Posts" / "Popular Posts" / "Archives" sections, and if any remarks please feel free to post.
Thanks & Vande Mataram!! Saroop Chattopadhyay.

Some recent posts

ভগবান রামচন্দ্র (রঘুবীর) ও ঠাকুর শ্রী রামকষ্ণ পরমহংস দেব, আর বর্তমানের সেক্যুলার (আসলে সিক কুলার) গণ।

শ্রীরামকৃষ্ণের কুলদেবতা ছিলেন ৺রঘুবীর। তিনি নিজে  দেবতার কবচ পরতেন, তাঁর পার্থিব শরীর পঞ্চভূতে লয় হওয়ার পরবর্তী সময়ে শ্রীমা সেই পবিত্র কব...