Monday, February 12, 2018

Some thoughts about Love Jihad during this Valentine Week & Valentine’s Day written by --Zinna Ahmed. প্রেম-দিবসের প্রাক্কালে 'লাভ-জিহাদ' নিয়ে কিছু কথা লিখেছেন জিন্না আহমেদ


সম্প্রতি লাভজিহাদশব্দটি ভারতীয় উপমহাদেশের ভাষা-শব্দভান্ডারে তাৎপর্যপূর্ণ  শব্দ হিসেবে নিজের জায়গা নির্দিষ্ট করে নিচ্ছে। শব্দটি যদিও ভারতের উগ্র-হিন্দুত্ববাদী সংগঠণগুলির  মস্তিষ্কপ্রসূত, তবু এর বিষয়তাৎপর্যকে ধারণ করেছে প্রায় সমস্ত ধর্মের উগ্র-মতাবলম্বীরা।  সম্প্রতি আন্তঃধর্মের প্রেমের অপরাধে খুন হয়ে গেলো অঙ্কিত সাক্সেনা। এখানে মুসলিম পরিবারের হাতে খুন হয়েছে হিন্দু যুবক, আর রাজস্থানে এই অভিযোগেই হিন্দুপ্রচারকের হাতে খুন হয়েছে মুসলমান শ্রমিক। বাংলাদেশ ভারতে একই অভিযোগের কন্ঠস্বর শোনা যায় মুসলমান হিন্দু মৌলবাদীদের কন্ঠে। দুটি দেশেই লাভজিহাদেরঅভিযোগে  বারবার আক্রান্ত হয়েছে  তথাকথিত ভিন্নধর্মের যুগলেরা। 


লাভ জিহাদনিয়ে যতই সোরগোল তোলো না কেন বাছা, ‘লাভে মধ্যেই যে  ‘জিহাদে শর্ত নিহিত থাকে তা তোমাকে মানতেই হবে। প্রতিটি যুগেই ভালবাসার জিহাদ তো  ভালবাসাহীন নির্মম সমাজের দিকে ছুঁড়ে দিয়েছে চ্যালেঞ্জ। সামন্ততান্ত্রিক রক্তচক্ষুর বিরুদ্ধে তাকে রুখে দাঁড়াতে হয়েছে। ভালবাসা চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে ক্ষয়িষ্ণু মূল্যবোধকে, সনাতন প্রথাকে,পরিবারকে, ধর্মকে, এমনকি রাষ্ট্রকেও।  সামন্ততান্ত্রিক মূল্যবোধের ঠুলি চোখে পড়ে থাকলে ভালবাসার শক্তিকে অনুভব করা  সম্ভব নয়। আন্তঃধর্মেরঃ বিয়ের কথা দূরে থাক, সনাতন সমাজের তাঁবেদারেরা এই প্রজন্মের স্বধর্মের তরুণ-তরুণীদের সাধারণ মেলেমেশাকেও সহ্য করতে পারে না, মেনে নিতে পারে না বলেই এই প্রজন্মের নিজস্ব পছন্দের বিয়েকে লাভ- মেরেজআখ্যা দিয়ে তাদের সামাজিকভাবে আলাদা করতে চায়। পাশাপাশি যে অ্যারেঞ্জ-মেরেজে পক্ষে তারা সাওয়াল করে তাতে মানবতার অপমানের দিকগুলিকে ঐতিহ্য বলে গৌরবান্বিত করে তুলতে চায়। সেই অর্থে আমাদের অবক্ষয়িত সমাজে লাভ-মেরেজআসলে লাভ-জিহাদ

সমাজের স্থিতাবস্থার কর্ণধারেরা চিরকালই প্রেমের বিপক্ষে, তা সেটা স্বধর্মেই হোক বা বিধর্মে। মোঘল সম্রাট আকবরের পুত্র সেলিম আর রাজ্যের নর্তকী অনিন্দ্য  সুন্দরী আনারকলির প্রেম সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। প্রেমের জন্য এত বড় আত্মত্যাগ এই উপমহাদেশে  এক বিরল দৃষ্টান্ত। সম্রাট আকবর এই সম্পর্ক মেনে নেন নি। কিন্তু প্রেমশক্তিতে দুর্নিবার সেলিম পিতার বিরুদ্ধে ঘোষনা করে লাভ-জিহাদ কিন্তু   শক্তিশালী আকবরবাহিনীর কাছে সেলিম পরাজিত হয়। নিজ সন্তানের মৃত্যুদন্ড ঘোষনা করে আকবর। সেলিমকে বাঁচাতে আনারকলি নিজের জীবনের বিনিময়ে সেলিমের প্রাণ ভিক্ষা চায়। অবশেষে সেলিমের চোখের সামনেই আনারকলিকে জীবন্ত কবর দেওয়া হয়। ভালবাসাকে বারবার পরীক্ষিত হতে হয়েছে তার অভ্যন্তরে জিহাদ আছে বলেই। 


লাভ-জিহাদতো আন্তঃধর্মের পরিণয় সংক্রান্ত বিষয় নয়। আমাদের শাশ্বত প্রেমের জুটি  রাধা-কৃষ্ণের দিকে একবার চোখ ফেরানো যাক। রাধিকা ছিলেন আয়ান ঘোষের স্ত্রী এবং সম্পর্কে  কৃষ্ণের মামিমা। বৈষ্ণব-পদাবলীর অভিসারপর্যায়ের পদগুলির দিকে তাকালেই বোঝা যাবে সামাজিকভাবে অবৈধ এই প্রেম ছিল কতটা দুর্নিবার! প্রেমের জিহাদ তো শাশ্বত প্রমের যুগল মূর্তিতেই রয়েছে। জিহাদের আরো নমুনা আছে মথুরা পর্যায়ে কৃষ্ণের আর এক প্রেমকে কেন্দ্র করে। কৃষ্ণ রুক্মিণীর কাছ থেকে পত্র পেলেন তার পিতা বিদর্ভরাজ  তার সাথে শিশুপালের  বিবাহ স্থির করেছেন, কিন্ত রুক্মিনী ভালোবাসেন কৃষ্ণকেই। সুতরাং কৃষ্ণ যেন তাকে উদ্ধার করেন। বলরাম সবই জানতেন। রুক্মিনীর পত্র দেখা মাত্র ঠিক করলেন তিনি বিদর্ভ আক্রমণ করবেন ঠিক হল কৃষ্ণ রুক্মিনীকে মন্দির থেকে রথে তুলে পালাবেন। বলরাম বিদর্ভের রাজধানী অবরোধ করে রাখবে, যাতে  কোন সেনা কৃষ্ণের পেছনে না আসতে পারে। এই পর্বে বলরামের একটা উক্তি মহাভারতে খুবই   উল্লেখযোগ্য তা হলো, “বিদর্ভরাজকে সভ্যতা সেখানো দরকার”! অর্থাৎ যেসব গোষ্ঠি তাদের কন্যাকে স্বয়ংবরের সুযোগ দেয় না, তাদের অসভ্য বললেন বলরাম,

মহাভারতে আমরা আরও দেখেছি যে অর্জুন যখন  জানলেন সুভদ্রা তাকে ভালোবাসেন ( এবং তিনিও সুভদ্রার প্রেমে বিভোর) , কিন্ত তার বিবাহ দুর্যোধনের সাথে হবে তখন তিনি কৃষ্ণের কাছে মার্গ দর্শন চাইলেন কৃষ্ণ বললেন, ‘এই ক্ষেত্রে ক্ষত্রিয় মার্গ একটিই ! সুভদ্রাকে নিয়ে পালাও! রথ পাঠিয়ে দিচ্ছি’! তাহলে একটা ব্যপার বেশ  পরিস্কার, পুরাণে মহাকাব্যে যেটুকু ধর্মীয় স্বাধীনতার নিদর্শন রাখা হয়েছেবর্তমানে ধর্মবাদীরা সেটুকুও মানে না।


এই সমস্ত পুরাণ কাহিনি থেকে আমরা কী শিক্ষা নেব? যুগলেরা নিজের সিদ্ধান্ত নিজেরা নেবে নাকি তথাকথিত সমাজের দন্ডমুন্ডের কর্তারা নেবে? অজস্র উদাহরণ দেওয়া যায়। হিন্দুধর্মের পৃষ্ঠপোষকেরাই উদাহরণগুলো হজম করতে পারবেন না।চর্যাপদের  অভ্যন্তরস্থ কাহিনি বিশ্লেষণ করে ১০ সংখ্যক পদে দেখা যায় কাহ্ন নগরের বাইরে অচ্ছুত কোন এক ডোম্বীর উদ্দেশে প্রেম নিবেদন করেছে এবং১৯ সংখ্যক পদে দেখা যায় বাদ্য বাজিয়ে সেই ডোম্বীকে  বিবাহ  করতে যাচ্ছে।


এই অপরূপ প্রেমের অভিঘাতে কি সমাজের স্থিতাবস্থা টাল খায় নি? টাল খেয়েছে কিন্তু অনার কিলিংহয় নি। অথচ অধুনা সমাজে অনার-কিলিংকে তাত্ত্বিক ভিত্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। মুসলমান সাজিয়ার  সাথে প্রেম করার জন্য হিন্দু অঙ্কিত সাক্সেনাকে তার প্রেমিকার ভাই এবং বাবা দিল্লীর রাস্তায় সবার সামনে কুপিয়ে খুন করেছে। লোকেরা সেই দৃশ্য মোবাইলে তুলতে ব্যস্ত ছিল-কেউ এগিয়ে আসেনি তাকে বাঁচাতে। রাজস্থানে কর্মরত শ্রমিক আফরাজুলকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হলো লাভ-জিহাদে অভিযোগে। এই হত্যাকান্ড ভিডিও তে ছবি তুলে ভাইরাল করা হলো অন্যদের আতঙ্কিত করার জন্য। 

শুরুর কথা দিয়েই শেষ করি। সব সময়ই প্রেম অপ্রতিরোধ্য। লাভ-জিহাদেরঅজুহাতে অথবা অনার-কিলিংশিরোনামে এর গতি রুদ্ধ করার চেষ্টা মানেই ইতিহাসের অমোঘ স্রোতের বিপক্ষে যাওয়া। আমরা এই কথাগুলি বলছি লাভ-জিহাদের ঐতিহাসিক শিবির থেকে, যে শিবিরে প্রেমই একমাত্র ধর্ম, তাই ধর্মান্তরকরণের কোন প্রশ্ন নেই,আছে পূর্ণ-মানবিক পৃথিবীর প্রতিশ্রুতি।
লিখেছেন --Zinna Ahmed Edited By Saroop Chattopadhyay

Please see other posts in this blog page by clicking "Home" or from "My Favorite Posts" / "Popular Posts" / "Archives" sections, and if any remarks please feel free to post.
Thanks & Vande Mataram!! Saroop Chattopadhyay.

No comments:

Post a Comment